জুমুআর দিন দুইটি আযান নিয়ে কথিত আহলে হাদীসদের বিভ্রান্তি হতে সাবধান

- সামীউর রহমান শামীম


শুরু করছি, শায়েখ ইবনে উসাইমিন (রহ.)’র একটি বক্তব্য দিয়ে। শায়েখ বলেন,

ﻓﺎﺳﺘﻤﺮﻭﺍ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﺃﻧﺘﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺫﺍﻧﻴﻦ ، ﻭﻻ ﺗﺨﺘﻠﻔﻮﺍ ﻓﺘﺨﺘﻠﻒ ﻗﻠﻮﺑﻜﻢ

অর্থাৎ ‘‘অতএব দুইটি আযান দেয়া চালু রাখুন। আর নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না।’’
.
আমরা জানি যে, জুমুআর দিন মোট দুইটি আযান দেয়া হয়। যথা— ১। প্রথম আযান এবং ২। ইমাম যখন মিম্বরে খুতবার জন্য বসেন তখন আযান দেয়া হয়, যেটি দ্বিতীয় আযান। তৃতীয় আরেকটি আযান দেয়া হয়, যেটি ইকামত। অর্থাৎ আযান দুইটি আর একটি ইকামত।
.
কিন্তু জুমুআর প্রথম আযানকে বিদআত বলার দুঃসাহস দেখায় কথিত আহলে হাদীস, লা-মাযহাবীরা। লা-মাযহাবী আলেম মুযাফফর বিন মুহসিন সাহেব তার বহুল সমালোচিত ও বিতর্কিত ‘জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত’ নামক পুস্তিকায় (পৃ. ৩৪৫) জুমুআর সালাতের জন্য দুই আযান দেয়াকে ভুল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,
.
‘‘জুম‘আর ছালাতের জন্য দুই আযান দেওয়ার যে প্রথা সমাজে প্রচলিত আছে তা সুন্নাত সম্মত নয়। জুম‘আর আযান হবে একটি ইমাম খুৎবা দেওয়ার জন্য যখন মিম্বরে বসবেন, তখন মুয়াযযিন আযান দিবে।……’’
[জাল হাদীছের কবলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত, দ্বাদশ অধ্যায়, ছালাতুল জুম‘আ, পৃ. ৩৪৫, ২য় সংস্করণ অক্টোবর, ২০১৩]
.
এর পরের পৃষ্ঠায় (৩৪৬ পৃ.) মুযাফফর সাহেব ফিকহে হানাফীর কিতাব আল হেদায়ার গ্রন্থাকার ইমাম মারগীনানী (রহ.)’র ব্যাপারে অভিযোগ করে তাঁকে বিদআতী ও ভিত্তিহীন আযানের পক্ষাবলম্বনকারী বলেছেন। এছাড়াও তিনি আক্রমনাত্মকভাবে পুরো আলোচনাটি করে নিজেদের আসল রূপ তুলে ধরেছেন।
.
মুযাফফর সাহেব যেহেতু ইমাম মারগীনানীকে বিদআতী ও ভিত্তিহীন আযানের পক্ষাবলম্বনকারী বলেছেন, সেহেতু এখন তাকে শায়খ বিন বায, ইবনে উসাইমিন (রহ.)সহ আরবের বড় বড় সালাফী আলেমদেরকে বিদআতী ভিত্তিহীন আযানের পক্ষাবলম্বনকারী বলতে হবে।
.
.
শায়েখ ইবনে উছাইমিন (রহ.)'র ফাতাওয়া :
.
শায়েখকে প্রশ্ন করা হয় :
ﻫﻞ ﺍﻷﻓﻀﻞ ﻭﺍﻷﻗﺮﺏ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺃﺫﺍﻥ ﻭﺍﺣﺪ ﻟﻠﺠﻤﻌﺔ ﺃﻡ ﺃﺫﺍﻧﻴﻦ؟
.
অর্থাৎ ‘‘কোনটি উত্তম ও সুন্নাতের অধিকতর নিকটবর্তী, জুমুআর জন্য এক আযান দেয়া নাকি দুটি আযান?’'
.
তিনি জবাবে বলেন
.
ﺍﻷﻓﻀﻞ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻟﻠﺠﻤﻌﺔ ﺃﺫﺍﻧﺎﻥ ﺍﻗﺘﺪﺍﺀ ﺑﺄﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﻋﻔﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ؛ ﻷﻧﻪ ﺃﺣﺪ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻋﻠﻰ ﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﺎﺗﺒﺎﻉ ﺳﻨﺘﻬﻢ
.
অর্থাৎ ‘‘উত্তম হলো, জুমুআর জন্যে দুটি আযান দেয়া, আমীরুল মু’মিনীন উসমান বিন আফফান (রা.)’র অনুসরণে। কেননা তিনি ছিলেন খলীফায়ে রাশেদীনের একজন। যাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের সুন্নাতের আনুগত্য করতে।’’
.
এরপর তিনি আরও বলেন,
ﻭﻷﻥ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻟﻢ ﻳﻨﻜﺮﻭﺍ ﻋﻠﻰ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻓﻴﻤﺎ ﻧﻌﻠﻢ ، ﻭﺃﻧﺘﻢ ﻣﺤﺘﺎﺟﻮﻥ ﻟﻸﺫﺍﻥ ﺍﻷﻭﻝ ﻟﺘﺘﺄﻫﺒﻮﺍ ﻟﻠﺤﻀﻮﺭ
.
অর্থাৎ ‘‘আর আমাদের জানা মতে, সাহাবীগণের মধ্যে হতে একজনও এমন নেই, যিনি কিনা আমীরুল মু’মিনীন উসমান (রা.)’র এ পদ্ধতি অস্বীকার করেছেন। আর আপনারা যথাসময়ে উপস্থিতের জন্য প্রথম আযানের মুখাপেক্ষী।’'
.
অতঃপর তিনি বলেন,
ﻓﺎﺳﺘﻤﺮﻭﺍ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﺃﻧﺘﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻷﺫﺍﻧﻴﻦ ، ﻭﻻ ﺗﺨﺘﻠﻔﻮﺍ ﻓﺘﺨﺘﻠﻒ ﻗﻠﻮﺑﻜﻢ
.
অর্থাৎ ‘‘অতএব দুইটি আযান দেয়া চালু রাখুন। আর নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না।’’
.
.
সঊদী আরবের প্রাক্তন প্রধান মুফতী শায়েখ বিন বায (রহ.) লিখেছেন,
.
ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﺫﺍﻥ ﻭﺍﺣﺪ ﻣﻊ ﺍﻹﻗﺎﻣﺔ ، ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻠﺨﻄﺒﺔ ﻭﺍﻟﺼﻼﺓ ﺃﺫﻥ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﺛﻢ ﺧﻄﺐ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺨﻄﺒﺘﻴﻦ ﺛﻢ ﻳﻘﺎﻡ ﻟﻠﺼﻼﺓ
.
অর্থাৎ ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে জুমুআর একটি আযান ও ইকামত ছিল। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা এবং নামাযের জন্য প্রবেশ করতেন তখন মুয়াযযিন আযান দিত অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি খুতবা দিতেন তারপর নামাযে দাঁড়াতেন।’'
.
শায়েখ এরপর বলেন,
.
ﺛﻢ ﺇﻥ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻛﺜﺮﻭﺍ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺍﻟﺨﻠﻴﻔﺔ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﻋﻔﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﺮﺃﻯ ﺃﻥ ﻳﺰﺍﺩ ﺍﻷﺫﺍﻥ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ، ﻭﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ: ﺍﻷﺫﺍﻥ ﺍﻷﻭﻝ ﻷﺟﻞ ﺗﻨﺒﻴﻪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻳﻮﻡ ﺟﻤﻌﺔ ﺣﺘﻰ ﻳﺴﺘﻌﺪﻭﺍ ﻭﻳﺒﺎﺩﺭﻭﺍ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻗﺒﻞ ﺍﻷﺫﺍﻥ ﺍﻟﻤﻌﺘﺎﺩ ﺍﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﺰﻭﺍﻝ ﻭﺗﺎﺑﻌﻪ ﺑﻬﺬﺍ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺍﻟﻤﻮﺟﻮﺩﻭﻥ ﻓﻲ ﻋﻬﺪﻩ ، ﻭﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﻋﻬﺪﻩ ﻋﻠﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﻭﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﻮﺍﻡ ﻭﻃﻠﺤﺔ ﺑﻦ ﻋﺒﻴﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻣﻦ ﺃﻋﻴﺎﻥ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻭﻛﺒﺎﺭﻫﻢ ، ﻭﻫﻜﺬﺍ ﺳﺎﺭ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﻓﻲ ﻏﺎﻟﺐ ﺍﻷﻣﺼﺎﺭ ﻭﺍﻟﺒﻠﺪﺍﻥ ﺗﺒﻌﺎ ﻟﻤﺎ ﻓﻌﻠﻪ ﺍﻟﺨﻠﻴﻔﺔ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﺗﺎﺑﻌﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺨﻠﻴﻔﺔ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻋﻠﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﻫﻜﺬﺍ ﺑﻘﻴﺔ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ . ﻓﺎﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﺃﻥ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺧﻼﻓﺔ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﺑﻌﺪﻩ ﻭﺍﺳﺘﻤﺮ ﻋﻠﻴﻪ ﻏﺎﻟﺐ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻓﻲ ﺍﻷﻣﺼﺎﺭ ﻭﺍﻷﻋﺼﺎﺭ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻫﺬﺍ ، ﻭﺫﻟﻚ ﺃﺧﺬﺍ ﺑﻬﺬﻩ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻓﻌﻠﻬﺎ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻻﺟﺘﻬﺎﺩ ﻭﻗﻊ ﻟﻪ ﻭﻧﺼﻴﺤﺔ ﻟﻠﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻭﻻ ﺣﺮﺝ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ . ﻷﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ‏ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺴﻨﺘﻲ ﻭﺳﻨﺔ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﻤﻬﺪﻳﻴﻦ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﻓﺘﻤﺴﻜﻮﺍ ﺑﻬﺎ ﻭﻋﻀﻮﺍ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺑﺎﻟﻨﻮﺍﺟﺬ- ﻭﻫﻮ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﺍﻟﻤﺼﻠﺤﺔ ﻇﺎﻫﺮﺓ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻓﻠﻬﺬﺍ ﺃﺧﺬ ﺑﻬﺎ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻭﻟﻢ ﻳﺮﻭﺍ ﺑﻬﺬﺍ ﺑﺄﺳﺎ ﻟﻜﻮﻧﻪ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﻋﻠﻲ ﻭﻣﻦ ﺣﻀﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻢ ﺟﻤﻴﻌﺎ
.
অর্থাৎ ‘‘অতঃপর খলিফায়ে রাশেদ উসমান (রা.)’র আমলে মদীনায় লোক সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন তিনি তৃতীয় একটি আযান বৃদ্ধি করলেন। সেটিকে বলা হলো : জুমুআর প্রথম আযান, লোকদেরকে জানান দেয়ার জন্যে যে, আজ জুমুআর দিন। তারা যেন মূল আযানের (ইমাম খুতবা দিতে উঠলে যে আযান দেয়া হয়) আগেই নামাযের জন্য উপস্থিত হয়ে যায়। আর সমস্ত সাহাবা যাঁরা সে যামানায় ছিলেন, সকলে এর অনুসরণ করতেন। সে যামানায় ছিলেন আলী (রা.), আবদুর রহমান ইবন আওফ, যুবায়র ইবনুল আওয়াম, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সহ অন্যান্য বড় বড় সাহাবীগণ। তদ্রুপ খেলাফতের সকল মুসলিম জনগণ তাদের খলিফায়ে রাশেদের এ পদ্ধতি মেনে চলতেন। চতুর্থ খলিফায়ে রাশেদ আলী (রা.) ও বাকি সাহাবীগণও। এ জন্য উসমান (রা.)’র খেলাফতকালে উদ্ভাবিত এ পদ্ধতি তাঁর খেলাফতের পরেও সমস্ত এলাকা ও যুগে চালু রয়েছে আমাদের আজকের এ সময় পর্যন্ত। সুতরাং এ সুন্নাত যা উসমান (রা.) ইজতেহাদ করে চালু করেছেন, এর অনুসরণে কোনো সমস্যা নেই। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো এবং আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো।…’ (সুনানে আবূ দাউদ, হা. ৪৬০৭)। আর তিনি (উসমান রা.) খলীফায়ে রাশেদীনের একজন ছিলেন। সুতরাং এ জন্য আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এটি গ্রহণ করেছে। আর খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে উসমান ও আলী (রা.) এবং তাঁদের শাসনামলে উপস্থিত সাহাবাদের সুন্নাত পালনে আমরা কোনো কমবেশ করি না।’’
.
.
সঊদী আরবের রাষ্ট্রীয় স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি ‘আল লাজনাতুদ দায়িমা’ প্রদত্ত ফাতাওয়া:
.
ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻟﻬﺎ ﺃﺫﺍﻥ ﻭﺍﺣﺪ ، ﻫﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻷﺻﻞ ، ﻭﻫﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﻤﻔﺘﺮﺽ ﻋﻨﺪ ﺩﺧﻮﻝ ﺍﻟﺨﻄﻴﺐ ، ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻮﺍﻗﻊ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ، ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺩﺧﻞ ﺍﻟﺨﻄﻴﺐ ﺃﺫﻥ ﺑﻼﻝ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ، ﺛﻢ ﺯﺍﺩ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﺃﺫﺍﻧﺎ ﺛﺎﻧﻴﺎ ﻣﺴﺘﺤﺒﺎ ﻟﺘﻨﺒﻴﻪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻗﺒﻞ ﺍﻷﺫﺍﻥ ﺍﻷﻭﻝ - ﻳﻌﻨﻲ ﻗﺒﻞ ﺍﻷﺫﺍﻥ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ ﺍﻟﺬﻱ ﻋﻨﺪ ﺩﺧﻮﻝ ﺍﻟﺨﻄﻴﺐ - ﻳﺆﺫﻥ ﺑﻪ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﺑﻨﺼﻒ ﺳﺎﻋﺔ ﺃﻭ ﻧﺤﻮﻫﺎ ﺃﻭ ﺳﺎﻋﺔ ﺣﺘﻰ ﻳﻌﻠﻢ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ، ﻭﺣﺘﻰ ﻳﺴﺘﻌﺪﻭﺍ ﻟﻠﻤﺠﻲﺀ ، ﻭﻗﺪ ﺩﺭﺝ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﺗﺄﺳﻴﺎ ﺑﻌﺜﻤﺎﻥ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﻋﻠﻲ ﻭﻋﻬﺪ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺑﻌﺪ ﻋﺜﻤﺎﻥ ، ﺛﻢ ﺩﺭﺝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ، ﻓﻬﺬﺍ ﻣﺸﺮﻭﻉ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﺨﻠﻔﺎﺀ ﺍﻟﺮﺍﺷﺪﻳﻦ
.
অর্থাৎ ‘‘জুমুআর আযান একটি। মূলত মূল আযান এটি। যখন খতীব প্রবেশ করে তখন দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এমনটিই হতো। যখন খতীব প্রবেশ করতেন, বিলাল (রা.) আযান দিতেন। অতঃপর উসমান (রা.) তাঁর যামানায় একটি আযান বৃদ্ধি করলেন, যেটি মুস্তাহাব। এটি চালু হয়, লোকদের জুমুআর দিনের জানান এবং ইমামের খুতবা দেয়ার পূর্বের আযানের আগেই মসজিদে উপস্থিত হতে বলার জন্য। ……… এটি উসমান (রা.), আলী (রা.) এবং উসমান (রা.)'র পরের সাহাবায়ে আজমাঈনগণের সময়ে চালু ছিল। অতঃপর এটি সালাফে সালেহীনদের মাঝে চালু ছিল। এই আযান খুলাফায়ে রাশেদীনের আমল থেকে প্রমাণিত।
.
.
জুমুআর দুটি আযানকে যারা সুন্নাত সম্মত মানতে অস্বীকার করে, বিদআত বলে, তাদের বক্তব্যকে শক্তভাবে খণ্ডণ করেছেন শায়েখ ইবনে উসাইমিন এবং সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির মুফতীগণ।
.
তাই মুযাফফর বিন মুহসিনসহ আমাদের দেশের সকল লা-মাযহাবী কথিত আহলে হাদীস আলেম, যারা বলে জুমুআর আযান একটি হবে, তাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করুন। তাদের বিভ্রান্তি থেকে নিজে সাবধান থাকুন, অন্যকে সাবধান করুন।

-------------------
সংযুক্তিঃ
১. শায়েখ বিন বায (রহ.)'র ফাতাওয়া :
https://www.binbaz.org.sa/fatawa/1316

https://www.binbaz.org.sa/noor/5652

২. শায়েখ ইবনে উসাইমিন (রহ.), শায়েখ সালেহ আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) এবং আল লাজনাতুদ দায়িমার ফাতাওয়া http://majles.alukah.net/t113091/
৩.  আল লাজনাতুদ দায়িমায় শায়েখ বিন বাযের ফাতাওয়া :
http://www.alifta.net/Fatawa/fatawaDetails.aspx?BookID=4&View=Page&PageNo=1&PageID=2182 
৪. আল লাজনাতুদ দায়িমার ফাতাওয়া :
http://www.alifta.net/Fatawa/fatawaDetails.aspx?BookID=2&View=Page&PageNo=1&PageID=2069 
৫. ফাতাওয়া নূর আলাদ দরব
http://www.alifta.net/Fatawa/fatawaDetails.aspx?BookID=5&View=Page&PageNo=1&PageID=3518 

মন্তব্যসমূহ

নামহীন বলেছেন…
আলহামদু লিল্লাহ, মা শা আল্লাহ্‌, আপনি চমৎকারভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বারাকাল্লাহু লাক।


তবে শেষ করার ভঙ্গিটা হয়তো কিছুটা ভিন্নও হতে পারে। যেহেতু রসূল সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি আজান প্রচলন করেছেন তাই এভাবে বলা যেতঃ

"..., যারা বলে জুমুআর জন্য দুইবার আযান দেওয়া যাবেনা, তাদের সে বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করুন।"

আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।

এই সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

ডাউনলোড করুন মাকতাবায়ে শামেলা লেটেস্ট ভার্শন (মোবাইল এবং পিসির জন্য)

রুকইয়াহ আশ-শারইয়্যাহ (ডাউনলোড)

ইসতিখারার সুন্নত তরিকা + pdf