পোস্টগুলি

Abdullah Al Mahmud লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শবে মেরাজের বিশেষ কোন ইবাদাত আছে কি?

ছবি
মেরাজের রাতে ইবাদতের বিশেষ ফযীলতের ব্যাপারে কোন হাদীস বিদ্যমান নেই। তাই শবে মেরাজের আলাদাভাবে কোন আমল ইসলামী শরীয়তে নেই। আশ্চর্য এর বিষয় হলো, শবে মেরাজ বেদয়াত বলার পরেও এটাকে তারাই পালন করতে উৎসাহ বোধ করেন। যারা একইদিনে বৈশাখ উদযাপন করেছেন। দিনে ইসলাম ও ঈমান বিরোধী কার্যকলাপ করে রাতে গিয়ে 'অতি মুমিন' প্রমাণ করতে বিদয়াতে লিপ্ত হচ্ছে। বাংগালীদের মাঝে উৎসব উৎসব ঝোকটা একটু বেশি। সবকিছুতেই উৎসব, আয়োজন আর ঘটা করে পালন করার একটা প্রবণতা। যে মেরাজে নবীজী সা. ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ এর বিধান আনলেন। সারা বছর সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের খবর নেই, কিন্তু শবে মেরাজের এক রাতে একশ রাকাত নফল নামাজ পালন করছে। যেটা বিদয়াত! তাছাড়া মেরাজের ঘটনা রজবের ২৭ তারিখ ঘটেছে, এটা কোন হাদিস বা নির্ভরযোগ্য সনদেও প্রমাণিত না। তবে মেরাজ নিঃসন্দেহে রাসূল সা. এর মোজেজা ছিল। এটার উপর আমাদের আকীদা রাখতে হবে। কিন্তু এই রাতকে কেন্দ্র করে কোন আমল ইবাদাতের ভিত্তি নেই। নেই বিশেষ নামাজ, বিশেষ রোজা, আগরবাতি জ্বালানো, ভালো খাবারের আয়োজন, জিলাপি শিন্নি। এগুলো সবই ভিত্তিহীন প্রথা। কিছু বর্ণনা হাদিসের নামে প্রচার করা হয়, রজব...

পাত্রীর বাড়িতে বিয়ের আয়োজন প্রসঙ্গে ইসলাম কি বলে?

প্রশ্নঃ Assalamualaikum.. Amader ekhnkar somoye meyer family theke biyer khana khawanu ta normal hoye gche. Meyer family jodi normally nijer icchai khawai biyer onusthan kore tahole ki oi dawat a jawa jai? উত্তরঃ সাধারণত কাউকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো মুস্তাহাব আমল। কিন্তু পাত্রীপক্ষের প্রচলিত আয়োজনটা নাজায়েজ। কেন নাজায়েজ? এর কারণ অনেক। তার মধ্যে কয়েকটা ব্যাপার না বললেই নয়। মেয়েপক্ষের এই জাতীয় অনুষ্ঠান এর প্রচলন ইসলামে নেই। এটা খুব সম্ভবত হিন্দুয়ানী প্রথা থেকে এই সমাজে রয়ে গেছে। এই প্রথা পালনের জন্যে মেয়ের পরিবারকে অত্যন্ত করুন পরিস্থিতি ও আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যে মেয়ের বাবা অঢেল সম্পত্তির মালিক, তার কাছে এই ব্যাপারটা গভীর আবেদন না রাখলেও, যে মেয়ের বাবা নেই, অথবা থাকলেও তার আর্থিক সংগতি নেই, তার কাছে এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিষয়। তারপরেও করতে হয়। কেন করতে হয়? সামাজিক চাপ, বরপক্ষের কাছে যেন ছোট না হয়, মেয়ের মান রক্ষা ইত্যাদি। এই মান রক্ষা বা প্রথা রক্ষা করতে গিয়ে অপরিসীম কষ্ট ও ত্যাগের শিকার হতে হয়, মেয়ের অভিভাবককে। অনেককে তো হাত পাততেও হয়। আল্লাহ পানাহ! সমস্যার মূল, এই ...

বিয়ের পূর্বে কনে দেখা ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ

কনে দেখা, প্রথা বনাম সুন্নাহ আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হলো, আমরা যে কোন জায়েজ মুস্তাহাব কাজকে নিজস্ব একটা রুপ দান করি। এটাকে সাহাবা বা রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক নয়, বরং নিজেদের মত ও পথ অনুযায়ী চলতেই যেন আমাদের প্রবল আগ্রহ। এই প্রবণতার খেসারত স্বরুপ অনেক হালাল ও মুস্তাহাব কাজকেও বেদাত বা অপসংস্কৃতি বানিয়ে ছেড়েছি। মৃত বাড়ির আয়োজন থেকে নিয়ে ঈদ, শবে বারাত সবকিছুতেই আমাদের বাড়তি সংযোজন। বাদ যায় নি, বিয়েও। বিয়ের কনে দেখার ক্ষেত্রে আমরা দু ধরনের সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। ১- ওয়েস্টার্ন ২- হিন্দুয়ানী প্রথা। ওয়েস্টার্ন ধারাটা গড়ে উঠেছে খুব বেশিদিন হয় নি। পাত্র পাত্রীর হোটেল রেস্টুরেন্ট সাক্ষাৎ, আড্ডা, একান্তে মিলিত হওয়া। ঘুরতে যাওয়া.... নানা কায়দায় পাত্র পাত্রী একে অন্যকে নিরীক্ষা করে। ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও কোন কোন গোত্রে এই 'টেস্টিং প্রোসেস' বিদ্যমান ছিল।* ওয়েস্টার্ন কালচারে এটা পারিবারিক বিয়ের ভদ্রোচিত নমুনা। আর লাভ ম্যারেজ? জঘন্য সব পাপে লিপ্ত হওয়ার পর সেটাকে জায়েজ করার জন্যে একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন! দ্বিতীয় এই ধারাটির চল সবচেয়ে বেশি। ননপ্রাক্টি...

সুন্নত নামাজ : ফাযায়েল এবং মাসায়েল

সুন্নত নামাজ আদায়ের কিছু ফাযায়েল ও কিছু মাসায়েল জানতে চেয়েছিলেন নাসীহা গ্রুপের কতক ভাই। তাদের জন্যে লেখাটা তৈরি করা............ "সুন্নত আদায়ের গুরুত্ব" *** ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফজরের ফরজের পূর্বে দু রাকাত সুন্নত, জোহরের আগে ৪ রাকাত সুন্নত, জোহরের পর দু রাকাত সুন্নত, মাগরিবের পর দু রাকাত সুন্নত ও এশার ফরজের পর দু রাকাত সুন্নত, মোট ১২ রাকাত সুন্নতের ফাযায়েল-- /-- আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় বার রাকাআত সুন্নাত নামায আদায় করে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করেন। এ সুন্নাতগুলো হল, যুহরের (ফরযের) পূর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের (ফরযের) পর দুই রাকাআত, ইশার (ফরযের) পর দুই রাকাআত এবং ফযরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাকাআত। উম্মু হাবীবাহ বলেছেনঃ আমি যে সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সলাত সম্পর্কে শুনেছি তখন থেকে আর কখনো তা আদায় করা পরিত্যাগ করিনি। আম্বাসাহ ইবনু আবূ সুফইয়ান বলেছেনঃ এ সলাত সম্পর্কে যখন আমি উম্মু হাবীবার কাছে শুনেছি, তখ...

যিলহজ মাসের মাসয়ালা মাসায়েল

যিলহজ্ব শব্দটির আরবী উচ্চারণ যুলহিজ্জাহ। বাংলায় ‘যিলহজ্ব’ উচ্চারণে প্রসিদ্ধ। এই মাস ‘আশহুরে হুরুম’ তথা সম্মানিত চার মাসের অন্তর্ভুক্ত। এই পূর্ণ মাস, বিশেষত প্রথম দশ দিন অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আমল হজ্ব ও কুরবানী এ মাসেই আদায় করা হয়। যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা আল্লাহ তাআলা এই দশকের রাত্রীর শপথ করেছেন কুরআনে কারীমে। ইরশাদ হয়েছে, وَ الْفَجْرِۙ وَ لَیَالٍ عَشْرٍ ‘শপথ ফযরের, শপথ দশ রাত্রির’। সূরা ফাজর (৮৯) : ১-২ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও মুজাহিদ রাহ.সহ অনেক সাহাবী, তাবেঈ ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত্রি’ দ্বারা যিলহজ্বের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে। তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫ 👍 প্রথম দশ দিনের ফজীলত ১/ হযরত ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ الل...

খাদ্য সংস্কৃতি, আমাদের অসচেতনতা

ছবি
এক, খাদ্যাভ্যাস সভ্যতা সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সভ্যতার সংঘাত বা সংস্কৃতির লড়াইয়ে খাদ্য উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ। আমরা এই অঞ্চলে মাছ ভাত ডাল হালাল গোস্ত খেয়ে থাকি। আবহমানকাল থেকে এই সংস্কৃতি চলে আসছে। বর্তমানে খাদ্যাভ্যাসে বেশ পরিবর্তন এসেছে এই প্রজন্মের। মাসায়েল গ্রুপে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি খাবারের হালাল হারামের প্রশ্ন আসায়, বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। আমাদের গ্রহণপটু মানসিকতার কারণেই কিনা, দিনেদিনে আমরা পশ্চিমা খাদ্যে নিজেদের অভ্যস্ত করে ফেলেছি। অনেক অভিভাবক থেকে এমনও শুনেছি যে তাদের সন্তানরা ঘরের সাধারণ খাবার খেতেই চায় না। হটডগ, বার্গার, পিৎজা ইত্যাদিই তাদের প্রধান আহার্য। ফলে, বাধ্য হয়ে ঘরেই সেসব খাবার তৈরি করতে হচ্ছে। পশ্চিমা খাদ্য সংস্কৃতির বিপরীতে আমরা আমাদের খাদ্যাভ্যাস ইসলামী সংস্কৃতিতে গড়ে তুলতে পারি। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন খাদ্যকে আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে নেই। খেজুর, মধু, যাইতুন, যব ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনে ৪ জায়গায় খেজুর ও খেজুর বৃক্ষের কথা আলোচনা হয়েছে। (সুরা ক্বাফ-১০, সুরা শু'আরা- ১৪৮, সুরা মারইয়াম-২৫, সুরা নাহল ৬৭) বিভিন্ন হাদিসেও খেজুরের কথা আলোচিত...

হারাম সম্পদ ও তার কুফল

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا ۖ إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ হে রাসূলগণ! পবিত্র বস্তু আহার করুন ও সৎকাজ করুনন। নিশ্চয় আমি আপনাদের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। (সূরা মু'মিমুন-৫১) এই আয়াতে আল্লাহ তা'য়ালা নেক আমল এর আদেশ করছেন। হালাল রিজকও একটি আমল। তবুও সেটাকে আলাদা করে, এবং নেক আমল এর পূর্বে উল্লেখ করেছেন। পবিত্র কুরআনের বাক্য বিন্যাসের তাৎপর্য আছে। নেক আমলের পূর্বেই হালাল খাদ্যের কথা বলা হয়েছে এর গুরুত্ব বোঝাতে। কারণ আমল এর কবুলিয়াত ও রুহানিয়াত হাসেল হওয়ার জন্যে রুটিরুজি হালাল হওয়া জরুরী। শরীরে যদি হারাম খাবার প্রবেশ করে, তাহলে দিল মরে যায়। নেক আমলের স্বাদ পাওয়া যায় না। হারাম মালের একটা অন্যতম কুফল হচ্ছে, হেদায়েত অন্তরে প্রবেশ করে না। আমালে সালেহা বিস্বাদ লাগে। সদুপদেশ তিক্ত লাগে। আল্লাহ তায়ালা এক আয়াতে এদিকে ইংগিত করেছেন। كَلَّاۖ بَلْۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ কখনও না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। (আল-মুতাফ্‌ফিফীন ৮৩:১৪) হারাম অর্থের এই কুফল...

এস্তেগফারঃ বিয়ে ও রিযক লাভ এবং পেরেশানী ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির উপায়

আমি তখন জালালাইন জামাতের ছাত্র। জালালাইন (একটি তাফসীরগ্রন্থ) এর দারসে আমাদের উস্তাদে মুহতারাম মুফতী শাফিকুল ইসলাম একটি ঘটনা শেয়ার করলেন তার নিজের জীবন থেকে। দীর্ঘদিন তার সন্তান হয় না। (তিনি সময়টা বলেছিলেন সম্ভবত ১৭ বছর) একদিন তিনি হাদিসে পেলেন এস্তেগফার এর ফজীলত। আমল শুরু করলেন। দীর্ঘকাল পর যখন স্বামী স্ত্রী প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন সকল চেষতা-প্রচেষ্টার পর, তাদের হয়ত সন্তান হবেই না। তখন এই আমলের বরকতে তাদের কোলজুড়ে সন্তান এলো। আমি আমার ব্যক্তিজীবনের নানা পেরেশানি ও মুসিবত থেকে মুক্তি পেয়েছি এই এস্তেগফার এর সুবাদেই। এতো গেলো একজন গোণাহগারের জীবনের কথা। এবার শুনুন সোনালি যুগের (সাহাবী ও তাবেয়ীনদের যুগ) এর একটি ঘটনা। একবার হাসান বসরী রাহ. এর কাছে এক ব্যক্তি জানালো “ আমার ফসলে খরা লেগেছে। আমাকে আমল দিন” হাসান বসরী তাকে বললেন এস্তেগফার করো। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে অভিযোগ পেশ করল “আমি গরীব। আমাকে রিজক এর আমল দিন” হাসান রহ. তাকেও বলেলন এস্তেগফার করো। এমনিভাবে অপর এক ব্যক্তি এসে সন্তান হও্য়ার আমল চাইলে তিনি বললেন, এস্তেগফার করো।” উপস্থিত ছাত্ররা জিজ্ঞেস করল, “সবাইকে এক পরামর্...

প্রভিডেন্ট ফান্ড বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?

১। প্রশ্নঃ Government provident fund (GPF) এর সুদ কি হালাল হতে পারে? উত্তরঃ প্রভিডেন্ট ফান্ড দুই ধরনের আছে, ১। বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড ২। ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর্মচারির বেতনের নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে রাখা হয়; যাতে তার কোন ইখতিয়ার নেই। সরকার বাধ্যতামূলক ভাবে নিজস্ব রুল বা নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীর নামে তার তহবিলে জমা রাখে। এ ফান্ডে সূদের নামে যা দেয়া হয়, এগুলো মূলত সূদ নয়। বরং কর্মচারীর বেতনেরই অংশ। সুতরাং এগুলো গ্রহণকরা ও নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা সবই বৈধ। আপনার জন্যে সেটা সুদ নয়, বরং ইনআম হিসেবে ধর্তব্য হবে। এতে যেহেতু মালিকানা আসছে না, তাই হস্তগত হওয়ার পূর্বে যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর সেচ্ছায় যে প্রভিডেন্ট ফান্ড গ্রহণ করা হয়; তা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এটা সূদের সাথে সাদৃশ্য রাখে, তাই এটাকা গ্রহণ করা যাবেনা। যদি নেয়া হয়ে থাকে তাহলে সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিতে হবে। স্বেচ্ছায় রাখা প্রভিডেন্ট ফান্ড যেহেতু চাইলে উঠিয়ে আনতে পারে, তাই এতে যাকাত দিতে হবে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ হয়। --- ১। আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া শামী সংলগ্ন-৭/৩৯৮-৪০১ ২। ফ...

ব্যাংকে জব বিষয়ে আরও কিছু প্রশ্নোত্তর...

পুর্বের পোস্ট দেখুন- সুদী ব্যাংকে চাকুরী করা কি জায়েজ? ১। প্রশ্নঃ আমরা জানি সুদী ব্যাংকে চাকরি করা হারাম... কোন ইঞ্জিনিয়ার যদি ব্যাংকে চাকরি করা কারো বাড়ি বানিয়ে দেয়া বা নকশা করে দেবার বিনিময়ে ব্যাংকারের কাছ থেকে পারিশ্রমিক গ্রহন করে তাহলে সেটাও কি হারাম হবে ?? উত্তরঃ সুদের কারবার বা সুদ থেকে উপার্জনকারীর সাথে লেনদেনে সতর্ক হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, যদি জানা থাকে যে উক্ত ব্যাক্তি যে টাকা প্রদান করছে তা ব্যাংক থেকে উপার্জিত, অথবা ব্যাংকে চাকুরী ছাড়া তার কোন আয়ের উৎস নেই। তাহলে তার দেয়া বিনিময় বা হাদিয়া কোনটাই গ্রহণ করা জায়িজ নয়। সুতরাং ব্যাংকার বাড়ি বানাতে গিয়ে যে অর্থ খরচ করেছে, তার বেশিরভাগ বা পুরোটাই যদি ব্যাংক থেকে উপার্জিত হয় , আর এটা নিশ্চিতভাবে জানা থাকে তাহলে সেটা নেয়া জায়েজ নয়। আলআশবাহ ওয়ান নাযাইর ৩/২৩৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৯৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০০; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪২; ইতরুল হিদায়া ৬৮; আহসানুল ফাতওয়া ৭/২২ ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪/২৪২ ২। প্রশ্নঃ আমার দুলাভাই একটি সরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন, যা অবশ্যই সুদ সংশ্লিষ্ট। উনাকে অনে...

আরাফাহ দিবস বা ইয়াওমে আরাফাহ কোনটি?

ছবি
 'আরাফাহ দিবস' বা ইয়াওমে আরাফাহ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?   হাদীসে 'ইয়াওমে আরাফা'তে রোজা রাখার বিশেষ ফজীলত বর্ণিত হয়েছে - (صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده) ‘ইয়াওমে আরাফার রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা এর আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের গোনাহ মাফ করবেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২ . প্রশ্ন হচ্ছে ইয়াওমে আরফাহ বলতে কী বোঝায়? আরাফাহ দিবস দ্বারা ৯ ই জিলহজ্ব উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এই দিনটি। এটি একটি পারিভাষিক নাম, যেহেতু ৯ ই জিলহজ্বে আরাফাহতে অবস্থান করা হয়, তাই এই দিনটিকে আরাফাহ দিবস বলা হয়। একইভাবে দশই জিলহজ্ব যেহেতু কুরবানি দেয়া হয়, তাই একে 'ইয়াওমুন নাহর' বলা হয়। উদ্দেশ্য, ১০ ই যিলহজ্ব। সুতরাং যে অঞ্চলে যেদিন যিলহজ্ব এর দশ তারিখ হবে, সে অঞ্চলে সেদিনই কুরবানি হবে। একইভাবে, যে অঞ্চলে যিল হজ্বের ৯ তারিখ যেদিন হবে, সেদিনই রোজা রাখতে হবে। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট বোঝা উচিত, ৯ই যিলহজ্ব রোজা রাখা হাজীদের সাথে সম্পৃক্ত কোন আমল না। অর্থাৎ, এই আমল বরং যারা হাজী না, তাদের জন্যে। কারণ হাজীদের জন্যে এই দিনে...

সুন্নাত নামাজের কিছু ফাযায়েল ও মাসায়েল

সুন্নত নামাজ আদায়ের কিছু ফাযায়েল ও কিছু মাসায়েল জানতে চেয়েছিলেন নাসীহা গ্রুপের কতক ভাই। তাদের জন্যে লেখাটা তৈরি করা............ "সুন্নত আদায়ের গুরুত্ব" *** ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফজরের ফরজের পূর্বে দু রাকাত সুন্নত, জোহরের আগে ৪ রাকাত সুন্নত, জোহরের পর দু রাকাত সুন্নত, মাগরিবের পর দু রাকাত সুন্নত ও এশার ফরজের পর দু রাকাত সুন্নত, মোট ১২ রাকাত সুন্নতের ফাযায়েল-- /-- আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় বার রাকাআত সুন্নাত নামায আদায় করে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করেন। এ সুন্নাতগুলো হল, যুহরের (ফরযের) পূর্বে চার রাকাআত ও পরে দুই রাকাআত, মাগরিবের (ফরযের) পর দুই রাকাআত, ইশার (ফরযের) পর দুই রাকাআত এবং ফযরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাকাআত। উম্মু হাবীবাহ বলেছেনঃ আমি যে সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ সলাত সম্পর্কে শুনেছি তখন থেকে আর কখনো তা আদায় করা পরিত্যাগ করিনি। আম্বাসাহ ইবনু আবূ সুফইয়ান বলেছেনঃ এ সলাত সম্পর্কে যখন আমি উম্মু হাবীবার কাছে শ...

যাল্লাত ও শুযুযাত- আলেমদের বিরল ও বিচ্ছিন্ন মতের অনুসরণ....

'যাল্লাত, শুযুযাত, নাওয়াদের' ইত্যাদি দ্বারা বোঝানো হয়, শরীয়তের কোন সুষ্পষ্ট প্রতিষ্ঠিত বিধানের বিপরীতে, প্রায় সকল ইমামদের মতামতের চেয়ে ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক মত প্রদান করা। যেমন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। কেও একজন এটাকে মুস্তাহাব বলল। মদ খাওয়া হারাম। কেও একজন, এটাকে জায়েজ বলল। এই ধরণের মতামত যদি কেও দিয়েও থাকেন, সেটা অনুসরণ করা হারাম ও নিকৃষ্ট কাজ। কেন এই বিষয়টা লিখছি? বর্তমান সময়ের 'প্রাক্টিসিং' বা ইসলামি বিধিবিধান অনুসরণ করতে আগ্রহীদের সবচেয়ে বড় কয়েকটা ফেতনার মাঝে একটি হচ্ছে, 'শায আকওয়াল অনুসরণ করা'! অর্থাৎ, কোন ইমাম বা গবেষক এমন মত দিয়েছেন, যা প্রতিষ্ঠিত বিধানের বিপরীত অথবা সালাফে সালিহিনদের কেও এই মত দেন নি। কিংবা, পূর্বে কেও এই মত দিলেও সে মত উম্মাহর অন্যান্য আলেমগণ গ্রহণ করে নি। এর অনুসরণ ও হয় নি। যেমন, ইবনে হাজাম যাহেরী। তিনি কিছু মত দিয়েছেন, যা সকল আলেম প্রত্যাখ্যান করেছে। কেও এর অনুসরণ করে নি। তিনি বলেছেন, 'সন্তানের পিতা ধনী হলে সে তার সন্তানকে হত্যা করতে পারবে। কারণ পবিত্র কুরআনে দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। ধনী ব্যক্তির তো দারিদ...